কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১০০ ঘণ্টা: শূন্যরেখায় আটকে মানবতার আর্তনাদ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর আকার ধারণ করছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের চেষ্টার শিকার হয়ে ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ ৯ জন ব্যক্তি টানা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তীব্র রোদ, খোলা আকাশ এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। মাথার ওপর সামান্য একটি প্লাস্টিকই এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়। আটকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। সীমান্তের ১০৬০ নম্বর পিলারের কাছে নির্জন এলাকায় অবস্থান নেওয়া এসব মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল কিংবা স্যানিটেশন সুবিধা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি নিষ্পাপ শিশুসহ নারী ও শিশুদের এভাবে আটকে রাখা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সীমান্তবাসী ও মানবাধিকারকর্মীরা।

জানা যায়, গত রোববার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান আসেনি।

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে পুনরায় পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা এসব মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Share With