রৌমারীতে সৎ ছেলের হুমকিতে ঘরছাড়া ৮০ বছরের বৃদ্ধা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার খাটিয়ামারী গ্রামে সৎ ছেলের লাগাতার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জায়েদা বেগম। প্রাণভয়ে ঘরছাড়া হয়ে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩২ বছর আগে স্বামী সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার দুই স্ত্রী ও আট সন্তান আলাদা ঘরে বসবাস শুরু করেন। অভিযুক্ত জাহের আলী ফকির সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী জেলেখার সন্তান। তিনি মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জাহের আলীর বাড়ি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত নিকটবর্তী হওয়ায় মাদক প্রবেশ সহজ, আর সে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বাড়িতে রয়েছে ১৬টি সিসি ক্যামেরা এবং চারজন ভাড়াটে পাহারাদার যারা সবসময় বাড়ির নিরাপত্তায় নিযুক্ত থাকে।

জায়েদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ দেখলেই জাহের আলী তাকে সন্দেহ করে এবং মনে করে তিনি খবর দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং একবার ছুরি হাতে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে সে বৃদ্ধার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়, ফলে তিনি নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আত্মগোপনে রয়েছেন।

গত ৩ আগস্ট রৌমারী থানা পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গেলে জাহের আলী পালিয়ে যায়। পুলিশ জাহেরের মা জেলেখাকে তালা খুলে দিতে বললেও পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সৎ মা ও সৎ বোনদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে কোর্টে প্রসিকিউশন পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, এলাকাবাসী জাহের আলীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জায়েদা বেগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বিষয়টি অবহেলিত হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

Share With