গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। অবশেষে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক তিস্তা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ২ আগস্ট (শনিবার)। বহু কাঙ্ক্ষিত এ সেতুটি চালু হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও জনজীবনের চিত্র। সেতু ঘিরে দুই পাড়ের মানুষজনের মাঝে এখন বইছে উৎসবের আবহ।
প্রায় ১ হাজার ৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিস্তা সেতুটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে সরাসরি যুক্ত করেছে। সেতুটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এটি দেশের প্রথম দীর্ঘতম এলজিইডি বাস্তবায়িত সেতু, যার ওপর বসানো হয়েছে ৩১টি স্প্যান। দৃষ্টিনন্দন রঙ ও আধুনিক লাইটিংয়ে নির্মিত এ সেতু দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ সেতুর মাধ্যমে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, দুপাড়ে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ায় নিরাপদ হয়েছে বসতভিটা। বর্ষায় যেখানে নৌকা বা ঘুরপথে চলাচল করতে হতো, এখন সেখানেই গড়ে উঠছে সহজ ও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের যাতায়াতে দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারীসহ আশেপাশের উপজেলাগুলোর সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে ঢাকা যাতায়াতে সময় কমে যাবে প্রায় ৪ ঘণ্টা। একইসঙ্গে গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও তিস্তা পাড়ের অন্যান্য জেলার মধ্যেও দূরত্ব এবং ব্যয় হবে অনেক কম। এতে করে ত্বরান্বিত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং পণ্য বিপণন—যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, “এই সেতু আমাদের কাছে শুধুই একটি অবকাঠামো নয়, এটি বহু বছরের স্বপ্নের বাস্তব রূপ। যোগাযোগের দুর্ভোগের দিন শেষ হচ্ছে।”
আরেকজন স্থানীয় জুলফিকার আলী জানান, “এই সেতুর মাধ্যমে শুধু পথ সংযোগ নয়, ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ছোঁয়া মিলতে শুরু করেছে। ঢাকায় পৌঁছাতে এখন আর ঘুরপথ পাড়ি দিতে হবে না।”
এলজিইডির গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী জানান, সেতুর উভয় পাশে ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ ছাড়াও প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী শাসনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই সব কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্নের এ সেতুটি শুধু দু’পাড় নয়, যুক্ত করবে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়।
এই ব্রিজের নামটা সুন্দর হয়নি চেঞ্জ করা উচিত।