কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিখোঁজের প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর হাফেজ রোকনুজ্জামান রিপনকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, তাঁকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ভবনে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে পালিয়ে তিনি মুক্ত হন বলে জানিয়েছেন।
রোকনুজ্জামান উলিপুর উপজেলার বামনা ছড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি ও নামাজ পড়ানোর সঙ্গে যুক্ত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে হাজী বাড়ি পুরির পটল জামে মসজিদে নামাজ পড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন রোকনুজ্জামান। পরে তিনি নিখোঁজ হন। উলিপুর-বজরা সড়কের সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় তাঁর ব্যবহৃত পাঞ্জাবি ও স্যান্ডেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে তাঁর বাইসাইকেলটিও পড়ে ছিল।
পরে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দারিয়াপুর বাজার এলাকায় তাঁকে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পরিবারের সদস্যদের কাছে রোকনুজ্জামান দাবি করেন, ভোরে সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তাঁকে একজনের ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন। তিনি ওই ব্যক্তি সেখানে থাকেন না বলে জানান। এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তি তাঁর নাকে কোনো একটি বস্তু চেপে ধরলে তিনি জ্ঞান হারান বলে দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে গাইবান্ধার একটি পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনে দেখতে পান। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬ জনকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরে অপহরণকারীরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি আরও চারজনসহ মোট পাঁচজন দেয়াল বেয়ে নিচে জঙ্গলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। এরপর হেঁটে ও দৌড়ে তিনি দারিয়াপুর এলাকায় পৌঁছান বলে জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সেখানে আরও কেউ আটকে থাকলে তাদের উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার বলেন, ‘রোকনুজ্জামান অসুস্থ। তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’