৬২৯ কোটি টাকার ধরলা প্রকল্পে ধসের হুমকি: আতঙ্কে কুড়িগ্রামের গ্রামবাসী

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব এলাকায় ধরলা নদীর তীরে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁধের অন্তত ৩০ মিটার অংশে একের পর এক সিসি ব্লক দেবে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ক্ষয় শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

বাঁধের এ পরিস্থিতি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের সহস্রাধিক পরিবার ও কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বাঁধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস রোধের চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সিসি ব্লক না ফেলা এবং ডাম্পিং জোনের সুরক্ষা দুর্বল থাকায় প্রবল স্রোতের আঘাতে বাঁধ টিকতে পারছে না।

সারডোব গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এই বাঁধ আমাদের একমাত্র ভরসা। এটা ভেঙে গেলে শুধু ঘরবাড়ি নয়, আমাদের কৃষিজীবনও ধ্বংস হয়ে যাবে।” একই আশঙ্কার কথা জানান আরও কয়েকজন গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অবহেলার কারণেই প্রায়ই এমন বিপদের মুখে পড়তে হয়।

২০২০ সালে শুরু হওয়া ৬২৯ কোটি টাকার ধরলা প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর সংরক্ষণ, বিকল্প বাঁধ নির্মাণ এবং পুরনো বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর ফলে ২২ হাজার ৪০০ পরিবার, ৫০টি হাটবাজার, ৩০টি নৌঘাট এবং ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষিত হওয়ার কথা।

কিন্তু নতুন করে সারডোব এলাকায় বাঁধ ধসে পড়ার ঘটনা প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক জানান, “উজানে চর জেগে ওঠায় নদীর স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে। ফলে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপাতত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, পানি কমে গেলে পূর্ণাঙ্গ মেরামত করা হবে।”

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “প্রকল্প এখনো হস্তান্তর হয়নি। তাই বাঁধের যেকোনো ক্ষতির দায় ঠিকাদারের ওপর বর্তাবে। আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২২ সালের মতো বড় ধরনের বন্যা ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি আবারও তাদের বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

Share With