সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা।এতে রাস্তাঘাট,বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে। বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৫ টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সকাল ৭টায় শেষ হয়। টানা দুই ঘন্টা ধরে বৃষ্টিতে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় এ অবস্থাতার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অসংখ্য বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক বাড়িতে প্রবেশের রাস্তাও পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও টিউবওয়েলের মুখ পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাসিন্দারা রান্না, কাপড় ধোয়া, গোসলসহ দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের রাস্তাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পানি পেড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলা সদর কার্যত পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ভূরুঙ্গামারীতে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই উপজেলায়।
অথচ কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের অভাবে প্রতিবছর একই পরিস্থিতিরপুনরাবৃত্তি,ঘটছে,এলাকাবাসীর দাবি,ভূরুঙ্গামারী উপজেলাকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হলে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা। তাই দ্রুত এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবের কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। একটি সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা গ্ৰহন করে এই জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।