চিলমারীতে জুয়ার আসর থেকে ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ১৪ জন

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢুষমারা থানা পুলিশের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিয়ার রহমান।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নয়ারহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন (২৮), মো. আবু বকর (৫২), কোরবান আলী (৪৬), আব্দুল মালেক (৪০), কাবেল (৪০), শওকত (৪০), আলমগীর (৪০), মহিলার (৪৫), মোনছের আলী (৩৫), জাবেদ আলী (৪০), তারা মিয়া (৩৭), আবু বকর (৪০), মাইনুল (২৭) এবং সুমন (২৬)।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় আবু বকরের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ ৩৯ হাজার ৯২০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারদের রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চিলমারী উপজেলায় মাদক ও জুয়া বিরোধী নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

এদিকে ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেনের গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্থানীয় ইউনিটের সভাপতি হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চিলমারী উপজেলা জামায়াত।

চিলমারী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফজলুল হক মিঠুন ও রোকন সদস্য হযরত আলী জানান, “নয়ারহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হলেন হাফেজ মাওলানা মহসিন আলী। ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে জামায়াতের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। কিছু সংবাদমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জামায়াত নেতা হিসেবে তুলে ধরছে— যা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।”

চিলমারীর এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যা এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশেও উত্তাপ ছড়িয়েছে।

Share With