কুড়িগ্রামের শাহিনের কান্না—একজোড়া বোলিং সু-ই এখন স্বপ্ন

যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলে থাকা শাহীন আলম আজ ক্রিকেট মাঠ নয়, জীবন সংগ্রামে লড়ছেন নীরবে। একসময় যার বলের গতি ১৪০ কিমি/ঘন্টা ছিল, সেই প্রতিভাবান পেসার এখন চরম অর্থকষ্টে ভুগছেন। নেই একটি জোড়া বোলিং সু, নেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা চিকিৎসার সুযোগ। এমনকি বিকেএসপিতেও বকেয়া পড়ে আছে তার বেতন।

শাহীন আলম কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের সন্তান। বাবা দিনমজুর শাহাদত হোসেন, মা গৃহিণী সাতিনা বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট শাহীন। ছোটবেলা কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্যে, এমনকি বাবার সাথে কাজ করেছেন ইটভাটায়। তবে ক্রিকেটই ছিল তার জীবনের একমাত্র আলোকচ্ছটা।

২০১৯ সালের যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ে দলে ছিলেন শাহীন। কিন্তু এরপর ইনজুরিতে পড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যান লাইমলাইট থেকে। বন্ধুরা যখন জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত, তখন শাহীন নিজের জায়গাটাও হারিয়েছেন।

তিনি বলেন,

“আমার বন্ধু সাকিব (তানজিম), বড় ভাই শরীফুল—সবার সাথেই খেলেছি। এখন কেউ আর খোঁজ নেয় না। টেক্সট দিলে রেসপন্স আসে না। আমি এমন অবস্থায় আছি, যেখানে পরিবার চালানোর দায়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়।”

শেষবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেছেন নামমাত্র পারিশ্রমিকে। বর্তমানে বিকেএসপিতে কোনো ধরনের সহায়তা নেই বলেও অভিযোগ তার। ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক এক সময় সাহায্যের হাত বাড়ালেও, মূল যাদের দায়িত্ব ছিল তারা মুখ ফিরিয়ে আছেন।

শাহীন প্রশ্ন রাখেন,

“আমার মতো একজন যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার কি এতটুকু দাবিও করতে পারে না? আমার বন্ধুরা ইনজুরিতে পড়লে বিসিবি যত্ন নিয়েছে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি কেন?”

আজ তিনি চান অভিভাবক, ক্রিকেট বোর্ড এবং দেশের কাছে কিছুটা সাহায্য , কিছুটা প্রশিক্ষণের সুযোগ, একটু সম্মান আর সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার রাস্তা।

Share With

One thought on “কুড়িগ্রামের শাহিনের কান্না—একজোড়া বোলিং সু-ই এখন স্বপ্ন”

Comments are closed.