কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কাউনিয়ার চর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ আখিরুল ইসলাম উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক অফার লেটার পেয়েছেন, যা তার শিক্ষাজীবনের এক বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আখিরুল ইসলাম, পিতা মোঃ নুরুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। তিনি ২০১৫ সালে প্রতিভা বিদ্যানিকেতন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা (PSC) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জেএসসি (২০১৮) ও এসএসসি (২০২১) পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
২০২৪ সালে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ২২৫৭তম স্থান অর্জন করে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে অধ্যয়ন করার সুযোগ পান। তার মূল আগ্রহের বিষয় ছিল মাইক্রোবায়োলজি। তাই সেখানে তিনি আর কন্টিনিউ করেন নি।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে আইইএলটিএস সম্পন্ন করেন আখিরুল। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার অর্জন করেন।
তিনি যেসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—University of Hertfordshire – Pharmaceutical Science, London South Bank University – Biomedical Science, Anglia Ruskin University – Biomedical Science, University of Maryland – Biological Science, Learnkey Institute – Nursing, Semmelweis University – Pharmaceutical Science
এছাড়াও আরও ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আখিরুল ইসলাম জানান, তিনি আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেশনে London South Bank University-এ বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে তার ভিসা প্রক্রিয়ার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আখিরুল বলেন, “সত্যি বলতে অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যায় না। সুযোগ পাওয়ার পর আমার অনেক ভালো লেগেছে, আমার পরিবারের মানুষও অনেক খুশি হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল মেডিকেল সেক্টরে পড়াশোনা করার। সেই স্বপ্নের পথে এগোতে পারছি—এর জন্য আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভিসা হাতে পেলেই ইনশাআল্লাহ সবাইকে জানাবো।”
স্থানীয়দের আশা, আখিরুল ইসলামের এই সাফল্য কুড়িগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জেলার সুনাম বয়ে আনবে।