টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা; বিপাকে বোরো চাষি ও দিনমজুর, বিকেলে মিলেছে রোদের দেখা
কুড়িগ্রামে চলতি বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সদর উপজেলায় ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা এই ভারী বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে ব্যাপক দুর্ভোগ।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি বুধবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো ধান চাষিরা। পাকা ধান কাটার মৌসুমে এমন বৃষ্টিতে মাঠে জমে থাকা পানিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কলেজ মোড় এলাকার দিনমজুর বেলাল মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আজ কাজও বন্ধ। একদিন কাজ না করলে সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যায়।”

একই এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি। এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ধান কাটবো বুঝতে পারছি না।”
টানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের আয় বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাট-বাজারেও মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে, স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
তবে টানা বর্ষণের পর বুধবার বিকেলের দিকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদের দেখা মিলেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, জমে থাকা পানি দ্রুত না নামলে কৃষি ও জনজীবনে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।