কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় সাংবাদিক সংশ্লিষ্ট একটি গোডাউন থেকে জব্দ করা সরকারি চাল অবশেষে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসাগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজিবপুর থানা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চাল বিতরণের আয়োজন করে থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জব্দকৃত চাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের পরিবর্তে অসহায় ও অনাথ শিশুদের মাঝে বিতরণ করাই ছিল যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত। জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ শিবেরডাঙ্গী বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেনের মালিকানাধীন দুটি গোডাউন থেকে মোট ৭১ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ফাতেমা ট্রেডার্সের মালিক ও একটি গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া সমন্বয়ক সোহেল রানা স্বপ্নকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জব্দকৃত চাল পরবর্তীতে রাজিবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল কবির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম শামীম এবং রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুসা মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা স্বপ্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মায়ের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ চাল বিতরণ করা হলেও কিছু চাল গোডাউনে সংরক্ষিত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি কিছু সুবিধাভোগী চাল বিক্রি করায় অতিরিক্ত চাল জমা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন। তিনি জব্দকৃত চালকে ভিজিএফ বা ইউনিয়ন পরিষদের নয় বলেও দাবি করেন।
চাল বিতরণের সময় এতিমখানা ও মাদরাসার শিশু, শিক্ষক এবং স্থানীয় সমাজসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে অসহায় শিশুদের খাদ্যসুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি অভিযানে স্থানীয়দের তথ্য সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা এবং অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের এই উদ্যোগ আইনগত ও মানবিক—দুই দিক থেকেই প্রশংসনীয়।