চিলমারীর এক শিক্ষিকা আমেরিকায় থেকেও নিচ্ছেন সরকারি বেতন

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ফকিরকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও সরকারি চাকরি ও সুবিধা ভোগের অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও, কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মর্জিনা বেগমের স্বামী ও সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নাগরিকত্ব পেতে তিনি নিয়মিতভাবে সেখানে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিবছর সীমিত সময়ের ছুটি নিলেও, মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২ জুন ২০২৫ তারিখে তার স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে আসেননি। গত বছরও (২২ মার্চ থেকে ১ জুন ২০২৪ পর্যন্ত) তিনি একইভাবে অনুপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, “২৫ জুলাই শিক্ষা অফিস থেকে তার ২৫ দিনের ছুটির অনুমোদন পাওয়া গেছে। তবে ছুটির আবেদন ছিল ২৪ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত, অথচ অনুমোদনের কাগজ এসেছে ২৫ জুলাই, অর্থাৎ ছুটি শেষে ফেরার তারিখেরও পরে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, “তিনি অসুস্থ স্বামীকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। ছুটি বাড়ানোর প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে, অন্যথায় বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে বছরের পর বছর এই অনিয়ম কীভাবে চলল, সে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Share With