পুত্রশোকে আজও নির্বাক কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মোখলেছুর রহমানের পরিবার। গত বছরের ৫ আগস্ট ‘জুলাই অভ্যুত্থান’–এর সময় লালমনিরহাটে প্রাণ হারান ছাত্র রাফিদ হোসেন রুশো। সেই থেকে কেটে গেছে এক বছর। কিন্তু থামেনি মা রশিদা বেগম আর বাবা জিয়াউর রহমানের বুকফাটা কান্না। ছবি আঁকড়ে, স্মৃতি হাতড়ে বেঁচে আছেন তাঁরা।
রুশোর বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই গ্রামে। বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাবিলদার পদে কর্মরত। মায়ের নাম রশিদা বেগম। বাবার চাকরির সুবাদে রুশো লালমনিরহাট সদরের খুটামারা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময়, ছয়জন ছাত্রসহ আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় রাফিদের। ওইদিন প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার সঙ্গে রুশোও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। নিহত অন্য ছাত্ররা হলেন রাজিব, জনি, জোবায়ের, শাহরিয়ার তন্ময় ও শ্রাবণ।
ছেলে হারানোর শোকে বিজিবি থেকে ১২ বছর চাকরি বাকি থাকতেই স্বেচ্ছায় অবসর নেন জিয়াউর রহমান। স্ত্রীকে নিয়ে ফিরে আসেন গ্রামের বাড়ি ফুলবাড়ীতে। এখন রুশোর ছবি আর স্মৃতি নিয়েই দিন কাটে তাঁদের।
রুশোর মা বলেন,
“রুশো ছিল আমাদের একমাত্র সন্তান। তাকে নিয়েই আমাদের সব স্বপ্ন, সব আশা। ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে। আজও মনে হয়, দরজা দিয়ে ঢুকে বলছে— মা!”
বাবা জিয়াউর রহমান বলেন,
“চাকরিতে থাকাকালীন সে কতবার যে ফোন দিত! ৫ আগস্ট শেষবারের মতো বলেছিল, ‘বাবা আমি জেলা পরিষদের সামনে আনন্দ মিছিলে যাচ্ছি, দোয়া করো।’ সেই কথাই ছিল শেষ কথা।”
নাতির ছবি হাতে নিয়ে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন রুশোর প্রায় নব্বই বছরের দাদা মোখলেছুর রহমান।
ছেলের অকালমৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন পরিবার আজও খুঁজে ফেরে বিচার আর উত্তর।