আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রকাশ করেছে কুড়িগ্রামের ভয়াবহ নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন। শিরোনাম ছিল— “When rivers swallow land: Bangladesh’s endless battle with erosion” — যেখানে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙনকে জলবায়ু পরিবর্তনের দৃশ্যমান প্রভাব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর কুড়িগ্রাম জেলায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। অনিশ্চিত নদীর গতিপথ ও তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ভেসে যাচ্ছে মানুষের ভিটেমাটি, ফসল ও জীবিকা।
৫০ বছর বয়সী কৃষক নুরুন নবীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “নদী প্রতিদিন আরও কাছে আসে। কতবার ঘর হারিয়েছি, হিসাব রাখতে পারি না।”
রয়টার্স জানায়, কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল আজ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। নদীভাঙনে এক বছরে বহু পরিবার বারবার স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই ক্রমাগত বাস্তুচ্যুতি তাদের জীবনযাত্রাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত রয়টার্সকে বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের কার্বন নিঃসরণের ০.৫ শতাংশেরও কম দায় বহন করে, অথচ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।” তিনি আরও বলেন, হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, ফলে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনটি আরও জানায়, স্থানীয় উদ্যোগে কুড়িগ্রামের কিছু চরে জিওব্যাগ স্থাপন ও উঁচু স্থানে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টিকবে কিনা, তা অনিশ্চিত।
বিশেষ প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামের নারী ও শিশুদের ভোগান্তির কথাও উঠে এসেছে। বাস্তুচ্যুত নারী শাহিনা বেগম বলেন, “দশ বছরে ছয়বার ঘর হারিয়েছি। বন্যার সময় কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে রান্না করতে হয়।”
বিশ্বব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ুজনিত কারণে প্রতি সাতজন বাংলাদেশির মধ্যে একজন বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
বাংলাদেশের নদীভাঙন ও মানুষের অনবরত টিকে থাকার সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরায় কুড়িগ্রামবাসীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি আরও স্পষ্ট হলো এই প্রতিবেদনে।