নাগেশ্বরীতে স্কুলঘর ভেঙে বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলঘর ভেঙে বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) সকালে ভৈষতুলিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করেন। পরে বিদ্যালয়ের জমিদাতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে একটি নতুন দুইতলা ভবন নির্মিত হয় এবং সেখানে পাঠদান কার্যক্রম চালু করা হয়। ফলে পুরোনো একটি টিনশেড ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম কয়েক দিন আগে গোপনে সেই ভবনের মেঝেতে বিছানো ইট সরিয়ে পাশের একটি বাড়িতে রাখেন। রোববার সকালে তিনি ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা আবু তালেব মিয়া জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দের দেড় লাখ টাকা, স্লিপ বরাদ্দের ৫৮ হাজার টাকা, ২৮ পিস ঢেউটিন, কাঠ, বাঁশ এবং শ্রেণিকক্ষের সাড়ে চার হাজার ইট বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছেন শহিদুল ইসলাম। তখনও আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম।”

ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল রব্বানী সজীবও একই অভিযোগ তুলে বলেন, কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁর অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি মহল আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। পরিত্যক্ত ঘরটি সরকারিভাবে নিলামে বিক্রির জন্য আমি লিখিত আবেদন করেছি। প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘরটির পেছনে জমির মালিকদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল, তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি নিয়ে ঘরটি ভাঙা হয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ বলেন, তিনি কাউকে এ ধরনের কোনো অনুমতি দেননি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের কোনো ভবন প্রধান শিক্ষক একতরফাভাবে ভাঙতে পারেন না। সরকারি নিয়ম মেনে ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

Share With