কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোরাই মালামাল পরিবহনের অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এসব পণ্যের কথিত মূল চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মো. সোহাগ মণ্ডল (২১), পিতা: মো. লুৎফর রহমান, গ্রাম: কবির মামুদ, থানা: ফুলবাড়ী, জেলা: কুড়িগ্রামকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেসহ আটক করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলিউল ইসলাম। পুরো অভিযানটি ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে পুলিশ জব্দকৃত মালামালের প্রকৃত মালিকানা ও উৎস সম্পর্কে তদন্ত শুরু করে। এ সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, এসব ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পরে সেগুলো ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।পুলিশের দাবি, এসব পণ্যের মূল মালিক ও চোরাচালানকারী মো. নুর ইসলাম (৪০), গ্রাম: বাঁশজানি, ইউনিয়ন: পাথরডুবি, উপজেলা: ভূরুঙ্গামারী। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ
আরও দাবি করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। জব্দ করা মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। সীমান্ত ঘেঁষা এ এলাকায় অবৈধভাবে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি এবং তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এবিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা মাদক ও চোরাচালানমুক্ত ভূরুঙ্গামারী উপজেলা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।