আশ্বিনের আকাশে ভাসমান সাদা মেঘ আর কাশফুলের দোলায় ভেসে আসছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সারাদেশেই প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা চলছে। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এ কাজে পুরুষ কারিগরদের পাশাপাশি নারীরাও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছেন। সংসারের কাজ সেরে তারাও প্রতিমা তৈরির নানা ধাপে সহায়তা দিচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ, দাশেরহাট, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের দেবালয় গ্রাম এবং রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে—প্রতিমার পলিশ, অলংকার, মুকুট, শাড়ির নকশা থেকে শুরু করে কাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত নানা কাজে নারীরা সমানভাবে কাজ করছেন। শিশুদেরও দেখা গেছে মা-বাবাকে সহায়তা করতে।
রাজারহাটের বৈদ্যেরবাজার গ্রামের প্রতিমাশিল্পী তপন মালাকার জানান, এ বছর তিনি ১৭টি প্রতিমার কাজের অর্ডার পেয়েছেন, যা গতবারের তুলনায় চারটি বেশি। অর্ডারের চাপে এবার তার স্ত্রী বেবী মালাকারও সংসারের কাজ সেরে প্রতিমা তৈরিতে হাত লাগিয়েছেন। বেবী বলেন, “আগে শুধু গৃহস্থালির কাজ করতাম। কিন্তু এবার কাজের চাপ এত বেশি যে, স্বামীকে সাহায্য করতে হচ্ছে।”
তাদের কন্যা সপ্তমী মালাকার (ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী)ও মা-বাবাকে সহায়তা করছে। অন্যদিকে বড় মেয়ে পূজা রানী প্রথমবারের মতো প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি এর আগে বিয়ের টোপর ও পূজার সরঞ্জাম তৈরি করতেন।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মীরা রানী রায়ও প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত আছেন। তিনি বলেন, “এবার কাজের চাপ অনেক বেশি। একা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” বংশপরম্পরায় প্রতিমা তৈরির কাজ করেন কারিগর কালিকান্ত পাল। তিনি জানান, এ বছর ১৪টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন, যা পরিবার-পরিজনের সহযোগিতা ছাড়া শেষ করা সম্ভব নয়।
কুড়িগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৯ উপজেলায় মোট ৫৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৮৫। এর মধ্যে রাজারহাটে ১৩২টি, উলিপুরে ১১২টি, নাগেশ্বরীতে ৮১টি, ফুলবাড়ীতে ৭২টি, সদর উপজেলায় ৫৭টি, কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ২০টি, চিলমারীতে ২৮টি, ভূরুঙ্গামারীতে ২১টি, রৌমারীতে ৭টি এবং চররাজিবপুরে ২টি।
জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহা জানান, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব। নির্বিঘ্ন পূজা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক তদারকি চালাচ্ছেন।