কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে দুই শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি শিফটে তিনটি করে শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একযোগে পাঠদান করছেন একমাত্র শিক্ষক। অস্বাভাবিক এ পরিস্থিতি বিগত দুই বছর ধরে চললেও কার্যকর সমাধান মেলেনি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রেষণে আরও একজন শিক্ষক সংযুক্ত করা হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে কার্যত কোনো মানসম্মত পড়াশোনা হচ্ছে না। দায়সারাভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। তাদের প্রশ্ন, একজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কীভাবে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব?
শিক্ষার্থীরাও জানায়, শিক্ষক এক ক্লাসে কাজ দিয়ে অন্য ক্লাসে চলে গেলে শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ রাখা সম্ভব হয় না।
স্থানীয় অভিভাবক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে নিয়মিত স্কুলে যায়, কিন্তু সেখানে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না। একজন শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালানোটা যেন তামাশা। এতে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।”
বিদ্যালয়টির একমাত্র শিক্ষক মোছাঃ শিরিনা আফরোজ জানান, “গত দুই বছর ধরে একাই দায়িত্ব পালন করছি। মাঝে মাঝে প্রেষণে শিক্ষক এলেও তারা বেশিদিন থাকেন না। চলতি বছরের পাঁচ মাস ধরে একাই সব সামলাচ্ছি। সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে, কিন্তু কোনো বিকল্প নেই।”
এদিকে, মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। দ্রুত সংকট নিরসনে বিদ্যালয়টিতে প্রেষণে আরও একজন শিক্ষক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরও জানান, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুইজন শিক্ষক দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে সাময়িকভাবে একজন শিক্ষক প্রেষণে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে বছরের শুরু থেকে শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগ না নেওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা।