২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষিগুচ্ছভুক্ত নয়টি পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কুড়িকৃবি) কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সারাদেশে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট ৩ হাজার ৭০১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮৮ হাজার ২২৭ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৫০ জন, যা নয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি লাঘবে উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো এই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট চারটি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রভিত্তিক পরীক্ষার্থী ও উপস্থিতির চিত্র নিম্নরূপ—
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেন্দ্র):
মোট পরীক্ষার্থী ৪০০ জন, উপস্থিত ৩৮৫ জন (৯৬.২৫%)
কুড়িগ্রাম সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (উপ-কেন্দ্র):
মোট ৬০০ জন, উপস্থিত ৫৭২ জন (৯৫.৩৩%)
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (উপ-কেন্দ্র):
মোট ৩ হাজার জন, উপস্থিত ২ হাজার ৯১২ জন (৯৭.০৭%)
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর (উপ-কেন্দ্র):
মোট ৩ হাজার ৬৫০ জন, উপস্থিত ৩ হাজার ৪৭৫ জন (৯৫.২০%)
সব মিলিয়ে চারটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭ হাজার ৬৫০ জন, এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭ হাজার ৩৪৪ জন। গড় উপস্থিতির হার ছিল ৯৬ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গে কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এ উদ্যোগের ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের যাতায়াতজনিত ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন,
“গতবারের মতো এবারও কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। গুচ্ছভুক্ত নয়টি পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভিজিল্যান্স টিম দায়িত্ব পালন করেছে। এর ফলে আজকের ভর্তি পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।”
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজ নিজ এলাকায় পরীক্ষা দিতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেন। নিকটবর্তী কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ায় যাতায়াতের কষ্ট ও অতিরিক্ত খরচ কমেছে বলে জানান তারা। উপাচার্য মহোদয়ের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব উল্লেখ করে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।