কু‌ড়িগ্রামে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, প্রসবের পর নবজাতকের মৃত্যুর দাবী পরিবারের

কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর অ‌ভি‌যোগ উঠে‌ছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা, অননুমোদিতভাবে ওষুধ ও ব্যথার ইনজেকশন প্রয়োগ এবং প্রসবের সময় অসতর্কতার অভিযোগ ক‌রে‌ছেন ভুক্ত‌ভোগী প‌রিবার। 

ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন শিশুটির বাবা মনির মিয়া।

ঘটনাটি ঘটেছে উলিপুর মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রসববেদনা শুরু হলে ধাম‌শ্রেনী এলাকার বা‌সিন্দা মনির মিয়ার স্ত্রীকে ক্লিনিকের কেবিনে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর মালেকা নামের এক আয়া ওই প্রসূ‌তি‌কে দুটি ট্যাবলেট খাওয়ান এবং রাত ১টার দিকে একটি ইনজেকশন দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে কর্তব্যরত নার্স ওই আয়াকে ভর্ৎসনা করেন।

পরদিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে নতুন দায়িত্বে থাকা নার্স নুসরাত প্রসূতিকে প্রসব কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আরও তিনটি ব্যথার ইনজেকশন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রসবের সময় শিশুর মাথা টেনে বের করার চেষ্টা এবং প্রসূতির পেটে শরীরের ওজন দিয়ে চাপ দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে প্রায় এক ঘণ্টা ৪৪ মিনিট পর মা নিজেই সন্তান প্রসব করেন। জন্মের পর শিশুটি কান্না করেনি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ৬০ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর শিশুটির মৃত্যু হয়।

মনির মিয়ার দাবি, রংপুরের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তাকে জানানো হয়েছে, প্রসবের সময় অসতর্কভাবে টানা-হেঁচড়া ও অপরিকল্পিত প্রসবের কারণে শিশুটির মস্তিষ্কে আঘাত লাগে। এ কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির বাবা বলেন, ভবিষ্যতে কোনো মা ও নবজাতক যেন এ ধরনের অবহেলার শিকার না হন, সে জন্য ক্লিনিকটির লাইসেন্স পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে উলিপুর মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকের সহকারী ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি আজকে ছুটিতে আছি, আগামিকাল ক্লিনিকে গিয়ে রেজিস্ট্রার দেখে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো ।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস  বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি ঢাকাতে মিটিং এ। অভিযোগ দিয়ে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share With