কুড়িগ্রামের মুকুল মিয়া দু’বছর ধরে শিকলবন্দী, সন্তানদের দিন কাটে চরম কষ্টে

স্বামী দু’বছর ধরে শিকলবন্দী, সন্তানদের দিন কাটে চরম কষ্টে। পরিবারটি ১০ বার তিস্তা নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সব কিছু হারিয়েছে। 

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দিনমজুর মুকুল মিয়ার পাঁচ সদস্যের সংসারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। 

 দুই বছর ধরে অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী তিনি। তার অস্বাভাবিক ও হিংস্র আচরণের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে দু’পায়ে লোহার শিকল বেঁধে রেখেছে পরিবারের সদস্যরা। 

টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার চিকিৎসা। একই সঙ্গে দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলের লেখাপড়াও প্রায় বন্ধ ।  অভাবের কারণে পরিবারটির দিন কাটছে অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে। 

মুকুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঘুমের মধ্যে সন্তানদের গলা চেপে ধরেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং কখনো কখনো কাপড়-চোপড়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার এমন আচরণে সন্তানরা বাবার কাছেও যেতে ভয় পায়। প্রতিবেশীরাও তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

 কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চর বজরা গ্রামে গিয়ে মুকুল মিয়ার (৩৮) পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। পরিবারটি প্রায় ১০ বার তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে তারা চর বজরার টারীপাড়ায় ওয়াপদা বাঁধের নিচে একটি ঘরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছাড়া তাদের কোনো জমিজমাও নেই।

পরিবারটির একমাত্র বসতঘরটির টিনের চালও জরাজীর্ণ। বিভিন্ন স্থানে ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি ও গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। আগে দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন মুকুল। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ তার শরীরে প্রচণ্ড জ্বর ও চুলকানি দেখা দেয়। পরে খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। 

স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। অর্থের অভাবে গ্রামের বাইরে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো সম্ভব হয়নি বলে জানান মুকুল মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

Share With