কুড়িগ্রামের শহীদ ফেলানী খাতুনের নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নামকরণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আলোচনা ও প্রক্রিয়ার পর অবশেষে চারটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, পূর্বের নামগুলোর পরিবর্তে নতুন নামগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন নাম অনুযায়ী—

‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’–এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল’ রাখা হয়েছে।

১০ তলা বিশিষ্ট ‘শেখ রাসেল হল’–এর নতুন নাম হয়েছে ‘নবাব সলিমুল্লাহ হল’।

‘শেখ হাসিনা হল’–এর নামকরণ করা হয়েছে ‘জুলাই চব্বিশ জাগরণী হল’।

আর ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’–এর নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘শহীদ ফেলানি খাতুন হল’।

বিশেষভাবে আলোচিত ‘শহীদ ফেলানি খাতুন হল’ নামটি রাখা হয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার কিশোরী ফেলানীর স্মরণে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার পথে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মাত্র ১৫ বছর বয়সী ফেলানী। তার মৃত্যু পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যাপক আলোচিত হয়।

রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেশ কয়েক মাস ধরে চলমান আলোচনার ভিত্তিতেই নতুন নামগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারটি হলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন থেকে সব আনুষ্ঠানিক নথিপত্রেও নতুন নাম ব্যবহার করা হবে।”

নতুন নামকরণের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও গণমানুষের স্মৃতি সংরক্ষণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রস্তাব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের বেশির ভাগ মহল।

উল্লেখ্য বীরপ্রতীক তারামন বিবি নামে অন্য একটি হল রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

Share With