কুড়িগ্রামে স্কুলের মাঠে বড় গর্ত, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে সীমানাপ্রাচীরের পাশের মাটি ধসে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি নষ্ট থাকায় সুপেয় পানির সংকটেও ভুগছে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের একাংশ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রাচীরের পাশে বৃষ্টির পানির প্রবাহে মাটি ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে তা পুকুরের মতো দেখাচ্ছে। এতে মাঠে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও খেলাধুলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটিও বেহাল। স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গেছে। প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল না থাকায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তার পাশের মাটি ধসে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনের সংকট না থাকলেও অবকাঠামোগত বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে সীমানাপ্রাচীরের পাশের মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট করা হলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলের জন্য মাঠটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শৌচাগারটিও ভগ্নদশা। সবচেয়ে বড় সমস্যা, বিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। ফলে শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সংকটে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ইটালুকান্দা গ্রামের সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। দ্রুত মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা এবং গাইডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও উপকৃত হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, মাঠের গর্ত দ্রুত ভরাট, সীমানাপ্রাচীরের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ, নষ্ট নলকূপ মেরামত এবং শৌচাগার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আমাকে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share With

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *