কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রহিমা বেওয়া নামে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ( ১০ এপ্রিল) সকালে বাড়ির আঙিনা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে যেকোনো সময় ওই বৃদ্ধাকে ডাকা হয়। ঘরের দরজা খুলে বাইরে আসলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কুড়ার পাড় এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত বৃদ্ধা রহিমা বেওয়ার চার মেয়ে ও এক ছেলে। প্রায় এক যুগ আগে স্বামী ফয়েজ উদ্দিন মারা যান। তার ছেলে-মেয়েরা পরিবার নিয়ে দিল্লীতে থাকেন। সেখান থেকে মাসে তিন হাজার টাকা করে পাঠান। তা দিয়েই তার সংসার চলে। একই ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ বাজার এলাকায় থাকেন এক মেয়ে। ৩২ শতক ভিটেমাটি ছাড়া কোনো সম্পদ নেই তার। বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। এলাকায় ভালো বলে বেশ নামডাকও রয়েছে তার।
পাশের বাড়ির সমবয়সী বৃদ্ধা অবিজন বেওয়ার সঙ্গে প্রতিদিন সকালে দেখা করতেন এবং একসঙ্গে বসে চা-নাশতাও করতেন। এদিন সকালে রহিমাকে না দেখে তার বাড়িতে যান তিনি। বাড়িতে গিয়ে গেট খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে দরজার সামনে রক্তাক্ত মরদেহ দেখে চিৎকার দেন। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়।
অবিজন বেওয়া বলেন, ওই আমার বাড়ি আসে। আমিও ওর বাড়ি যাই। সকাল হলে দেখা হয়। আজ সকালে ডাকতে গিয়ে দেখি পড়ে আছে। আমি চিক্কুর দিয়া পড়ে গেছি। কারও সঙ্গে ওর কোনো বিরোধ নাই। আমার সঙ্গেও নাই।
নিহতের পাঁচ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ফুলমালা থাকেন একই ইউনিয়নে। বাকী সবাই দিল্লীতে। ফুলমালা বলেন, আমার মায়ের কোনো শত্রু নেই। কে করল এই কাজ, জানি না। এক বছর আগে বাগানের সুপারি চুরি করতে এসেছিল কারা যেন। তাদের সঙ্গে মা’র ঝগড়াও হইছে। এ ছাড়া আর কিছু নাই।
সংশ্লিষ্ট রামখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বলেন, এটি এ এলাকার জন্য হৃদয় বিদারক ঘটনা। ওই বৃদ্ধা ভালো মানুষ বলে সবার কাছে পরিচিত। সবাই বলছে তার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। তার তেমন সম্পদও নেই যে কারণে খুন হতে হবে। তবে, এ এলাকায় কিছু মাদকসেবীর আড্ডা আছে। বছরখানেক আগে কিছু মাদকসেবী ছেলে তার বাগানের সুপারি চুরি করতে এসেছিল। সেটা একটা বিষয় আছে।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, বৃদ্ধার মাথায় ভোতা অস্ত্র দিয়ে আক্রোশমূলক একাধিক আঘাত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত খুন। তবে খুনের কারণ এখনও জানা যাচ্ছে না। কারা জড়িত তেমন কোনো তথ্য নেই। পরিবার বলছে কারও সঙ্গে বিরোধও নেই। নানা বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার আলামত সংগ্রহ করতে সিআইডির ক্রাইম সিনকে জানিয়েছে থানা পুলিশ। পরে তারা এসে আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহের হাতে চুলের মুঠি পাওয়ার কথাও বলছে পুলিশ। তাদের ধারণা, হত্যাকারী পরিচিত কেউ হতে পারে এবং তাদের মাঝে ধস্তাধস্তিও হয়েছে। ঘাতকের মাথার চুল ধরলে হাতে ছিড়ে এসেছে। এসব সংগ্রহ করেছে সিআইডি।