কুড়িগ্রামে ৭ বছরের শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত কচাকাটা উপজেলার নদীবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মারচর (পাগলার বাজার) এলাকায় হালিমা খাতুন (৭) নামে এক দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় হালিমা খাতুন নিজ ঘরের বিছানার ওপর বাঁশের ধরনায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। সে দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করত। পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের মতো পাশের বাজারে অবস্থান করছিলেন। কিছু সময় পর হালিমা বাইরে থেকে ফিরে না আসায় তার দাদি বেইলা বেগম খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঝুলন্ত মরদেহ নিচে নামান এবং বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করেন।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি কচাকাটা থানাকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কবিরুল ইসলাম কবির বলেন, “এত ছোট একটি শিশুর এমন ঘটনা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।”

কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

শিশুটির পরিবারিক প্রেক্ষাপটে জানা যায়, তার বাবা হেলাল মণ্ডল জীবিকার তাগিদে টাঙ্গাইলে থাকেন এবং মা প্রায় দুই বছর আগে আলাদা হয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। সে মূলত দাদা-দাদির কাছেই থাকত। নদীভাঙনের কারণে পরিবারটি সরকারি আশ্রয় এলাকায় টিনের ঘরে বসবাস করছিল।

Share With