কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আনন্দঘন পরিবেশ ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র‍্যালি, কেক কাটা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, ই-সেবা উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক আয়োজন।

সকালে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নূর মহল আখতার বানু বেলুন উড়িয়ে আনন্দ র‍্যালির উদ্বোধন করেন। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন থেকে শুরু হয়ে অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একাডেমিক ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নূর মহল আখতার বানুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল আলীম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ফিরোজ আহম্মেদ পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী হৃদি দাস পবিত্র গীতা পাঠ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ই-লাইব্রেরি মডিউল’, ‘স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা’ এবং কৃষি ও মৎস্য অনুষদের নতুন ওয়েবপেজ উদ্বোধন করেন।

আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে একটি সন্তোষজনক অবস্থানে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু করাও সম্ভব হয়েছে। এ জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন তিনি।

উপাচার্য আরও বলেন, আধুনিক গবেষণাগার ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ‘স্মার্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত-একাডেমিক সমস্যা মোকাবিলায় ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেল’ গঠনের ঘোষণাও দেন উপাচার্য।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থায় উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও পিএইচডি আবেদনের সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়ার কথা জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। অভিভাবকদের ত্যাগের মর্যাদা দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন মত, পথ ও আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নূর মহল আখতার বানু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল ও শিক্ষক কোয়ার্টার থাকবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষকদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দিনব্যাপী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

Share With

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *