গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬ কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শরিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম অধিবেশন থেকেই জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে তাঁর কণ্ঠ ছিল সোচ্চার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রথাগত প্রেস ব্রিফিং কিংবা সাক্ষাৎকার ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁর বিগত ৭ মাস ২৬ দিনের কর্মতৎপরতার একটি চিত্র উঠে এসেছে। সংসদ সদস্যের নিজস্ব অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তাঁর সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে জনকল্যাণ ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ।
ফেসবুক সূত্রে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ গত পৌনে আট মাসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান : এলাকার ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে মোট ৩০ লাখ টাকা (প্রতিটিতে ৫ লাখ টাকা) বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৫টি হাফেজি মাদ্রাসা এবং ১টি সাধারণ মাদ্রাসা সংস্কারসহ ৯টি গ্রামীণ রাস্তায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো: গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে ৩৬টি রাস্তায় সিসি ঢালাই, ৮টি সড়ক মাটি কেটে সংস্কার এবং স্থানীয় খাল ও নদী পারাপারে ৫টি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বড় ৩টি বহুতল ভবনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে।
নদীভাঙন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: কুড়িগ্রামের অন্যতম প্রধান ভৌগোলিক সমস্যা নদীভাঙন মোকাবিলায় ১২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে মোট ৭২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলানো হয়।
স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা: কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিজস্ব দাতব্য অর্থায়নে ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২ জন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি কবরস্থান উন্নয়ন, ১টি প্রধান ঈদগাহে মাটি ভরাট, ৪টি স্কুলের খেলার মাঠ সংস্কার ও ৩টি উপজেলায় দুস্থদের মধ্যে টিন বিতরণ করা হয়। স্থানীয় ২ টি উপজেলায় ২০ জন দুস্থ মানুষকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা এবং ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ’কে ঘিরে ১২টি খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য ১২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সংসদে অবস্থান ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা
দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদের কাছে তৃণমূল জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, “জাতীয় সংসদের ১ম অধিবেশন থেকে শুরু করে এখন অবধি কুড়িগ্রামের মানুষের পক্ষে কথা বলেছি, ইনশাআল্লাহ সামনেও বলবো। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এসব উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের পেছনে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সম্মানিত ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” রাজনীতি ও মাঠপর্যায়ের জনমতযদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উন্নয়নের একটি ইতিবাচকচিত্র ফুটে উঠেছে, তবুও স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে মাঠপর্যায়ের কিছু দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়মের খবর উঠে আসছে। তা সত্ত্বেও, সংসদ সদস্যের নিজস্ব নীতিগত অবস্থান ও স্বকীয় স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।কুড়িগ্রামের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে ড. মুজাহিদ এলাকার মৌলিক সমস্যা নিরসনে যে ভূমিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন, সেই ধারাবাহিকতা ও সুশাসন আগামী দিনেও বজায় থাকবে।