শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। প্রতিনিয়ত অসুস্থতা ও শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। তবুও থেমে যায়নি স্বপ্ন দেখা। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা তাকে এগিয়ে নিচ্ছে সামনে।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের খানপাড়া এলাকার এই অসহায় মেয়ে শিক্ষার্থী এবার উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ে ভর্তি হয়ে আবারও বই-খাতা হাতে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চায়। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়লেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা এখনও অটুট।
তার এই স্বপ্নের কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীর এইচএসসি ভর্তির পুরো ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অসুস্থতার কারণে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ওই শিক্ষার্থীকে। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাও তার পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তারপরও শিক্ষার্থীটি পড়াশোনা বন্ধ করতে চায় না। তার ইচ্ছা, অসুস্থতাকে পাশ কাটিয়ে যতটা সম্ভব পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানো।
তার এই অদম্য ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এইচএসসিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সে। আবারও নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরতে পারবে—এমন প্রত্যাশা তার।
কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল রানা বলেন, শুধু ভর্তি করিয়ে দেওয়াই নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হবে। তার প্রয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনা করে ভবিষ্যতে পাশে থাকার চেষ্টা থাকবে।
মানবিক এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একজন অসুস্থ শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে থেমে যেতে না দেওয়া। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এই শিক্ষার্থী হয়তো প্রতিদিনই শারীরিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছে, কিন্তু তার চোখে এখনও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। বই-খাতা হাতে আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরার সেই স্বপ্নই তাকে কঠিন সময় পার হওয়ার সাহস জোগাচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীটি অসুস্থ থাকায় তার ছবি তোলা হয়নি। তার শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনা করেই ছবি প্রকাশ থেকে বিরত থাকা হয়েছে।