কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা নাগেশ্বরী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ওমর ফারুক (৪২)। তিনি উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কুটি নাওডাঙ্গা তালেপেরহাট গ্রামের বাসিন্দা। ওমর ফারুক আনছারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং তালেপেরহাট সৃষ্টি পাবলিক মডেল স্কুলের পরিচালক বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কৌশলে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। পরে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় শিক্ষকের বাড়িতে কেউ ছিলেন না।
পরদিন ভোরে ছাত্রটিকে অসুস্থ অবস্থায় স্কুলের আবাসিকে রেখে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখান থেকে চলে যান। পরে ছাত্রটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়িতে ফিরে পুরো বিষয়টি জানায়।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও এমন অনৈতিক আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা তুলে নিতে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, অভিযোগটি তদন্তে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তবে এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।