নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ সংসদীয় আসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোটনির্ভর প্রার্থী নির্বাচনের কারণে কার্যকর উন্নয়ন ও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বারবার ‘সমঝোতার প্রার্থী’ নির্বাচিত হওয়ায় এই আসন থেকে গড়ে ওঠেনি দৃঢ় কোনো জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক নেতৃত্ব। সংসদে প্রতিনিধি থাকলেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো জাতীয় পর্যায়ে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের।
এই প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রাম-১ আসনে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে সামনে এসেছেন নাসিরা খন্দকার নিসা। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে কেবল একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভাঙার সাহসী উচ্চারণ হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।
বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে এখনো কুড়িগ্রাম জেলা থেকে কোনো নারী সাধারণ আসন থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি। সেই ঐতিহাসিক শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যেই সংরক্ষিত আসনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সাধারণ আসন থেকে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন নাসিরা খন্দকার নিসা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নারী নেতৃত্ব কোনো অনুকম্পা নয়; এটি যোগ্যতা, সক্ষমতা ও জনগণের আস্থার বিষয়।”
শিক্ষা, সংগঠন ও উদ্যোক্তা হিসেবে নাসিরা খন্দকার নিসা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় পরিচিত মুখ। একজন শিক্ষিত সংগঠক ও সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে শত শত নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নারী, যুবক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, তার জনপ্রিয়তা কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ইমেজ নয়; বরং দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজ, ধারাবাহিক গণসংযোগ এবং মানুষের পাশে থাকার বাস্তব অভিজ্ঞতার ফল।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে, নাসিরা খন্দকার নিসা যদি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পান, তবে তিনি কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবেন না—বরং শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। পিআর পদ্ধতির ভোট গণনায় অন্য যেকোনো প্রার্থীর তুলনায় তার ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কুড়িগ্রাম-১ আসনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশা ও বঞ্চনার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন সাহসী, সক্রিয় ও জনভিত্তিক নেতৃত্ব। সেই বিবেচনায় নাসিরা খন্দকার নিসা কেবল একজন প্রার্থী নন; তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতীক—যিনি এই জনপদের জন্য কার্যকর প্রতিনিধিত্ব ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছেন।
এখন দেখার বিষয়, আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনমতের সমন্বয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনে এই পরিবর্তনের ডাক কতটা বাস্তব রূপ পায়।