কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মুরগির খামারে শিয়ালের প্রবেশ ঠেকাতে স্থাপন করা বিদ্যুতায়িত জিআই তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটখাটামারী গ্রামে।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটখাটামারী গ্রামের মোছাঃ মজিনা খাতুনের জামাতা মোঃ বাবলা মিয়া তার শাশুড়ির জন্য একটি গরু কিনে দেন। গরুটি বাড়িতে পালন করার জন্য রাখা হয়। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকেলে গরুটিকে বাড়ির পাশে একটি মুরগির খামারের কাছে ঘাস খাওয়ার জন্য বেঁধে রাখা হয়। মুরগির খামারের মালিক মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, শিয়ালের আক্রমণ থেকে খামারের মুরগি রক্ষা করতে তিনি খামারের চারপাশের বাইরে জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রেখেছিলেন। গরুটি ঘাস খেতে খেতে একপর্যায়ে খামারের দিকে এগিয়ে গেলে ওই বিদ্যুতায়িত তারের সংস্পর্শে আসে। এতে গরুটি ঘটনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় বলে জানা গেছে।
এদিকে গরুটিকে দেখতে না পেয়ে এর মালিক মোছাঃ মজিনা খাতুন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরে একই গ্রামের আইনাল আলীর মেয়ে আল্পনা খাতুন ছোটখাটামারী মুরগির খামারের পাশে ঘাস কাটতে গেলে সেখানে গরুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি গরুর মালিককে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মুরগির খামারের পাশে গরুটির মরদেহ পড়ে রয়েছে। তবে ওই সময় খামারে কোনো মুরগি ছিল না।
ঘটনার বিষয়ে মুরগির খামারের মালিক মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শিয়ালের হাত থেকে মুরগি রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই খামারের বাইরে জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার বিষয়টি আশপাশের মানুষজন জানতেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ওসমান গনি বলেন, আজকে গরু না হয়ে যদি কোনো মানুষ সেখানে যেতেন, তাহলে তাকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যেত। কারণ, ওই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া আছে—এ বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানেন না।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে খামারের বাইরে খোলা অবস্থায় বিদ্যুতের তারে সংযোগ দিয়ে রাখলে গবাদিপশু, শিশু কিংবা পথচারীরাও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।