কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৫০টি সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো: করিম উদ্দিন খোকা নামের এক ব্যক্তি আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দিয়েছেন।
বাদীর অভিযোগ,উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক কানুয়া মৌজায় তার ক্রয়কৃত ২৪ শতক জমি রয়েছে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা জমিতে থাকা প্রায় ৫০টি সুপারি গাছ, চারটি ইউক্যালিপটাস, দুটি আমগাছ ও ১০টি কলাগাছ কেটে ফেলেন। এতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ,গাছ কাটতে বাধা দিলে তার ভাই আশরাফুল ইসলাম,ভাতিজা রাহুল ও ভাতিজি আকতারা খাতুনকে মারধর করা হয়। পরে বাদীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ও মেয়ে খুকুমনি এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্তরা ওই জমিতে প্রবেশ না করার জন্য তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী। সুযোগ পেলে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মামুনুর রাশেদ বলেন,‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।