চৈত্র মাসের অকাল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার বিলের নাফাডাঙ্গা অংশে প্রায় ১০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ধান ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বিলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়। বিশেষ করে নাফাডাঙ্গা এলাকার প্রায় ১০০ একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেতেই ধান পাকার শেষ পর্যায়ে থাকায় কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে সম্পূর্ণ ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চৈত্র মাসে এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তারা আগে কখনও দেখেননি। হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ঋণের টাকায় ফলানো ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নাফাডাঙ্গা এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। এখন সব পানির নিচে। দ্রুত পানি না নামলে আমাদের না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফসল কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন বৃষ্টি আমাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।”
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুন্নাহার সাথী জানান, চাকিরপশার বিলের প্রায় ১০০ একর জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে কৃষকদের দাবি, শুধু তালিকা প্রস্তুত নয়—বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রতি বছরই তাদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।