মে দিবসে সরকারি ও বেসরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটি পেলেও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এসব ক্লাব আজকেও খোলা রাখা হয়।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে ছুটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য খর্বের অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
শুক্রবার সকালে জেলার নাগেশ্বরী পৌরসভার গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়গঞ্জ হাতিয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কালীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম চলছে।
একই দিনে জেলা সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্লাব, ঘোগাদহ, ভোগডাঙ্গা কিশোর-কিশোরী ক্লাব, উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর, পাণ্ডুল ও বজরা কিশোর-কিশোরী ক্লাব এবং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ক্লাবেও কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়ন্তী রানী বলেন, “কিশোর-কিশোরী ক্লাব বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি। তাই নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবের কার্যক্রম চালু রাখা হয়।”
নারী ও শিশু বিষয়ক কার্যালয় থেকে জানা গেছে, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি জেলার পৌরসভা ও ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সক্ষম করা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্লাব চালু করা হয়।
ক্লাবগুলোতে সংগীত, আবৃত্তি ও জেন্ডার বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি ক্লাবে একজন সংগীত শিক্ষক, একজন আবৃত্তি শিক্ষক ও একজন জেন্ডার প্রোমোটর দায়িত্ব পালন করেন। তারা প্রকল্পভিত্তিক দৈনিক হাজিরার ওপর কাজ করেন এবং সাধারণত সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার ক্লাস নেন।
নাম গোপন রাখা শর্তে উলিপুর উপজেলার কয়েকজন সংগীত ও আবৃত্তি শিক্ষক বলেন, “আজ শ্রমিক দিবস। অথচ আমাদের কোনও ছুটি নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলা হয়, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। আজ ক্লাব বন্ধ রাখা উচিত ছিল।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের কিশোর-কিশোরী ক্লাবের আবৃত্তি শিক্ষক বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে বন্ধের নির্দেশ না পেলেও জেলা দপ্তর থেকে শ্রমিক দিবসে ক্লাব বন্ধ রাখার ঘোষণা আসলে ভালো হত। এটি আমাদের শ্রম অধিকার খর্ব করেছে।”
ক্লাব খোলা রাখার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম কুদরত-এ-খুদা বলেন, এর মধ্যে সব ইউএনওদের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।