সংসদের ১ম অধিবেশনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদের সরব উপস্থিতি

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে (১২ মার্চ – ৩০ এপ্রিল) ২৬ কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের গণমানুষের দাবি ও জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও সরব ভূমিকা পালন করেছেন সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ। এলাকার অবকাঠামো, রেলযোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে তাঁর করা তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলোর প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে, চলতি অর্থবছরে এই আসনের উন্নয়ন খাতে মোট ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সংসদে কুড়িগ্রামের কণ্ঠস্বর

অধিবেশন চলাকালে ড. আতিক মুজাহিদ ১০টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল কুড়িগ্রামের অবহেলিত চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা এবং ভুটান অর্থনৈতিক জোন নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা প্রশ্নটি। এছাড়া, কুড়িগ্রাম-২ আসনে কত শতাংশ রাস্তা কাঁচা এবং তা পাকাকরণের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী—স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে তা জানতে চান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্পায়নে বড় সুখবর

এলাকার শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ড. আতিক মুজাহিদ সংসদে ICT Incubation Center বা IT Training Center নির্মাণের দাবিসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিসিক (BSCIC) শিল্প নগরী পুনরায় সচল করার বিষয়ে শিল্প মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা

রেলপথে কুড়িগ্রামের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা এবং এলাকার প্রতিবন্ধীদের শতভাগ ভাতার আওতায় আনার বিষয়েও তিনি সরব ছিলেন। পাশাপাশি মাদকমুক্ত কুড়িগ্রাম গড়তে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের দাবি জানান তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বিশেষ প্যাকেজ

কুড়িগ্রামের দারিদ্র্য বিমোচনে এ অঞ্চলের জন্য একটি ‘বিশেষ প্যাকেজ’ তৈরি করে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন জানান ড. আতিক মুজাহিদ।

ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রতিটি মানুষের দাবি জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। প্রথম অধিবেশনেই আমরা উন্নয়ন খাতে সরকারের সহযোগিতায় ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। অনেকগুলো প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি আশা রাখছি, এই অঞ্চলের মানুষের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমার লক্ষ্য কুড়িগ্রাম-২ আসনকে একটি আধুনিক ও কর্মসংস্থানবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা; ইনশাআল্লাহ মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমি তা করতে সক্ষম হব।”

Share With