কুড়িগ্রামের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর রুটে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের তৃতীয় সড়ক সেতুর নামকরণ করা হয়েছে ‘মওলানা ভাসানী সেতু’। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করেন।
হরিপুর প্রান্তে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের ঢল নামে। উদ্বোধনের পর উপদেষ্টা গাড়িতে চড়ে সেতু পাড়ি দেন চিলমারী অংশে। এ সময় উচ্ছ্বসিত মানুষজন মোটরসাইকেল, কার, বাইসাইকেল, ইজিবাইক ও পায়ে হেঁটে সেতু পার হয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।
তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো এই সেতু। উদ্বোধনের পর এলাকার মানুষের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। স্থানীয় শিক্ষক প্রভাত চন্দ্র পাল বলেন, “বিখ্যাত মানুষের নামে সেতুটি নামকরণ হওয়ায় আমরা গর্বিত। এটি যোগাযোগ, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আরেক শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, শুরুতে ‘চিলমারী-হরিপুর তিস্তা সেতু’ নামে প্রচার থাকলেও শেষ পর্যন্ত ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ নামকরণে স্থানীয়রা খুশি।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও ওপিইসি ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) এর অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের বাস্তবায়নে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয় ৩৬৭ কোটি টাকা, আর সংযোগ সড়ক, নদীশাসন, কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে খরচ হয় ৩৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
সেতুটিতে রয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান ও ১৫৫টি গার্ডার। উভয় প্রান্তে পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি হয়েছে ১২টি ব্রিজ ও ৫৮টি বক্স কালভার্ট। পাশাপাশি ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে নদীশাসনসহ মোট ৫৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
চিলমারীর কৃষক আহাদ আলী শেখ বলেন, “মরণের আগে সেতু দেখে গেলাম। এখন শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতিতে গ্রামগুলো উন্নতির দিকে যাবে।”
ব্যবসায়ী আশরাফুল জানান, সেতুটি চালু হওয়ায় চিলমারী থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নদীবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতেই সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। এটি শুধু অবকাঠামো নয়, বরং উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠবে।