কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের বিলে পদ্মফুলের সমারোহ সৌন্দর্যপিপাসু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। প্রিয়জনের খোপায় পদ্ম গুঁজে দেওয়া কিংবা হাত বুলিয়ে ছুঁয়ে দেখার আনন্দে ভ্রমণকারীরা হারিয়ে যাচ্ছেন প্রকৃতির বুকে। কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় করছেন এ বিলে।
২৮৩ দশমিক ২৮ একর আয়তনের এ ঐতিহ্যবাহী বিল একসময় ছিল হাজারো পদ্মফুলের সমারোহে ভরপুর। কিন্তু দখল ও দুষণের কারণে বর্তমানে প্রায় ত্রিশ একর এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এর সৌন্দর্য। তবুও সাদা, গোলাপি ও সোনালী পদ্মফুল এখনো দর্শনার্থীদের মোহিত করে তুলছে। স্থানীয়রা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু হয়ে আশ্বিন পর্যন্ত এ বিল পদ্মফুলে মুখরিত থাকে।
তবে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দর্শনার্থীদের হতাশ হতে হচ্ছে। সরু সড়ক এবং নৌকা সংকটে পর্যটকরা কাছ থেকে পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন না। কুমারপাড়া থেকে আসা কল্পনা রানী জানান, “ছোট ডিঙ্গি নৌকা থাকলেও তা দিয়ে ঘোরা সম্ভব নয়। মাঝারি মানের নৌকা থাকলে কাছ থেকে পদ্মফুল দেখা যেত।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানান নাগেশ্বরী থেকে আগত কলেজ শিক্ষক মোমতাজুল ইসলামও।
রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রহ্লাদ মন্ডল সৈকত বলেন, “চাকিরপশার বিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা অনেক। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে এটি থেকে স্থানীয়রা আয় করতে পারবেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে চাকিরপশার বিল এখনো এক অনন্য সৌন্দর্যের লীলাভূমি। তবে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ না নিলে এর সম্ভাবনা হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।