কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক জোড়গাছ হাটে যাওয়া প্রধান সড়কটি বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হাঁটু সমান কাঁদা জমে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও পানি জমার কারণে হাটে যাতায়াত করা হাজারো মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
হাটের পরিবেশে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। হাটসংলগ্ন সড়কে বড় বড় গর্তে কাঁদা জমার কারণে পথ চলাচল প্রায় অচল। যানবাহনও চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
হাটে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, সপ্তাহে দুই দিন ‘রোববার ও বুধবার’ হাট বসে। সামনে কোরবানির হাটকে ঘিরে বেচাকেনা আরও বাড়বে। তবে সড়কের এই দুরবস্থা থাকলে ব্যবসায়িক ভোগান্তি বাড়বে।
কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কষ্টে উৎপাদিত ফসল হাটে আনার সময় কাঁদায় পড়ে অনেক পণ্য নষ্ট হয়, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম নোবেল অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ সত্ত্বেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে জনদুর্ভোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আঁশেক আঁকা জানিয়েছেন, সড়কটি উপজেলা এলজিইডির আওতাধীন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলি জুয়েল বলেন, জোড়গাছ হাটের দুইটি সড়কের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।