বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে ফুঁসে উঠেছে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন।
গত কয়েক দিনে উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাপনা এলাকায় দুধকুমার নদের ভাঙনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা, মসজিদ, বাজারসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শনিবার (০৬ জুন) বিকেলে নদীপাড়ে শত শত মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চর আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের মাস্টার এবং স্থানীয় কাজী মো. মোসলিম উদ্দিন খন্দকারসহ ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
চরকাপনা গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম বলেন, “বাপ-দাদার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা কোথায় যাব, কোথায় থাকব—ভেবে পাচ্ছি না।”
একই গ্রামের ছয়ফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এই চরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুবই কম। এখন সেগুলোও ভাঙনের মুখে। বাচ্চাদের পড়ালেখা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, আশ্বাস নয়—অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।