অবশেষে আলোর মুখ দেখছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা

তিস্তা নদীভাঙন ও খরার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রতিফলন ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ এবার বাস্তবায়নের পথে। একতরফা পানিবন্টনের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের মানুষদের প্রাণের দাবি এই প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন হবে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিনিয়োগে।

১০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের প্রথম পাঁচ বছরে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে মহাপরিকল্পনার খসরা চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের’ সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, “তিস্তা বাস্তবায়নের ফলে মানুষের মাঝে যে আশার আলো জন্মেছে, তা যেন নিভে না যায়। এই আলো যেন প্রজ্জ্বলিত থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ২০ জুলাই চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল উত্তরাঞ্চলে পরিদর্শনে আসে। তাদের সঙ্গে তিস্তা রক্ষা আন্দোলন ও নদীভাঙন প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মতবিনিময় করেন বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।

রংপুরে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব মাহফুজ-উন নবী ডন, জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু এবং কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা।

পরিদর্শন শেষে চীনা প্রতিনিধি দল সরেজমিনে তিস্তার পাড় ও ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের বসতবাড়ি ঘুরে দেখেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন, কিছু উপহার সামগ্রীও বিতরণ করেন। নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষিজীবী মানুষের দুর্দশা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অধিকারকর্মীরা আশাবাদী যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন রোধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীবিকায়ন উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

Share With