কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মইদাম সড়কে উপড়ে পড়া শতবর্ষী একটি বটগাছ দীর্ঘ এক মাস ধরে পড়ে থাকায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে গাছটি অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাথরডুবী ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের বটতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন এলাকাবাসী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক রুকনুজ্জামান রুকন, স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান পারভেজ, আজিজুল হক, সোবহান আলী, কামরুল ইসলাম, শামিম হোসেন এবং শিক্ষার্থী নাইম ও মইদাম উচ্চ বিদ্যালয়ের আবু বক্কর সিদ্দিক।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ জুলাই গাছটি সড়কের ওপর পড়ে গেলেও এখনো অপসারণ করা হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার অবহিত করা হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় মইদাম ও বাঁশজানী গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ সড়কবিহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকদের চলাচলে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের গড়িমসি ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণেই জনদুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়েছে। তারা অবিলম্বে গাছ অপসারণ করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক রুকনুজ্জামান রুকন বলেন, “জনসাধারণের ভোগান্তি নিরসনে আমরা আজ একত্রিত হয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ অপসারণ না হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো।”
এ বিষয়ে পাথরডুবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর বলেন, “আমি ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি তহসিলদারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই গাছ সরিয়ে ফেলা হবে।”
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানান, “গাছটি অপসারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে এ কাজে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাসময়ে গাছ অপসারণের মাধ্যমে চলাচলের দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি পাবে।