কুড়িগ্রামে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের রাজমাল্লী তালুয়াপাড়া হামিদিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানে গোপনে তিনটি পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উমর মজিদ ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের পুত্র সুমনকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে। এ-সংক্রান্ত দলিল নম্বর ১৩০৬/২৬।

এ ছাড়া কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে সাদেকুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ওই এলাকার এরশাদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ একজন দুর্নীতিবাজ।

প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রোস্তম আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পেছনে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং মেধা ব্যয় করেছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের উপঢৌকনের বিনিময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

জমিদাতা মরহুম আব্দুল জব্বারের নাতি আতিকুর রহমান বলেন, মাদরাসায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি যেদিন তিনি জানতে পারেন, সেদিনই আবেদন করতে চাইলে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান তাঁকে জানান, আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে।

এমনকি তিনটি পদের বিপরীতে নামমাত্র ১৩ জন পরীক্ষার্থী দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা আতাউর রহমান বকসী বলেন, টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি। তবে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি তাঁকেও বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি কতটুকু সত্য বা মিথ্যা, তা তিনি বলতে পারবেন না।

এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, যথাযথ নিয়োগবিধি মেনেই তিনি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। জমির বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিজের টাকায় ২০ শতাংশ জমি কিনেছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share With