অর্থসংকটে থমকে আছে ১২০ বছরের পুরোনো কৈকুড়িপাড় মসজিদের নির্মাণকাজ

কুড়িগ্রাম সদরে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে ২ নং ওয়ার্ড কৈকুড়িপাড়ে অর্থ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১২০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কৈকুড়িপাড় জামে মসজিদের নির্মাণকাজ। নতুন দ্বিতল মসজিদ ভবনের পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হলেও অর্থের অভাবে দেয়াল নির্মাণ ও ছাদ ঢালাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই কবরস্থানের জায়গাতে অস্থায়ী ঘরে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বৃষ্টির সময় চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে এবং রোদে ঘরটি প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের।

কুড়িগ্রাম সদরের কৈকুড়িপাড় গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে খড়, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসাবে মসজিদটির বয়স প্রায় ১৪০ বছর। পরে কাঠ ও টিন দিয়ে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে ইটের ঘড় তৈরি করে সেই ভবনেই দীর্ঘদিন ধরে নামাজ আদায় করে আসছিলেন এলাকার মুসল্লিরা।

কয়েক বছর আগে পুরোনো ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এজন্য আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

মসজিদ কমিটিবৃন্দ জানান, নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯-১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পিলার নির্মাণের পর দেয়াল ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। মসজিদের নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

গত ২ বছর থেকে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে কবরস্থানে টিনের একটি ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। তারা জানান, বৃষ্টি হলে টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। অন্যদিকে রোদে ঘরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এমন পরিবেশে নামাজ আদায় করতে তাদের কষ্ট হয়।

স্থানীয় মোঃ রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, মসজিদটির ভিত্তি নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা এখন বিপাকে পড়েছি। কারো কাছ থেকে অনুদান পাচ্ছি না, কাজেরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু নির্মাণকাজ থমকে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

মসজিদের খতিব মাওলানা এনদাদুল হক বলেন, মসজিদের আশপাশের এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা মসজিদের উন্নয়নে বেশি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন না। টাকার অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প স্থানে নামাজ আদায় করতেও মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে।

মসজিদ নির্মাণে দায়িত্বশীল মো:আনছার আলী ও মো:আলতাফ হোসেন বলেন, সমাজভুক্ত মুসল্লিদের অনুদান থেকে যে অর্থ আসে, তা দিয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতেই কষ্ট হয়। তাই নির্মাণকাজ শেষ করতে দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

Share With

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *