টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে এটি ছিল বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে। দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ২০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে। বিকেল ৩টায়ও একই অবস্থান রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
মাত্র ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তার পানি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় যেখানে পানি ছিল বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচে, সেখানে রোববার দুপুর নাগাদ তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাটগ্রামের দহগ্রাম, গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিন্দুর্না; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈইলমারী; আদিতমারীর মহিষখোচা, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকা।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, “পানির প্রবাহ বিকেলে আরও কিছুটা বাড়তে পারে এবং রাতের দিকে তা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পানি ঢুকেছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিন তিস্তা নদীসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকতে পারে বলেও জানান পাউবো কর্মকর্তারা।