কুড়িগ্রামের রাজারহাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক আবেদনকারী। রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে বঞ্চিত আবেদনকারীরা মানববন্ধন করেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও পছন্দের প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় গড়মিল করা হয়েছে। যোগ্য ও এলাকার প্রকৃত বাসিন্দাদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
উমরমজিদ ইউনিয়নের আবেদনকারী মাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলামের স্ত্রী মানসুরা বেগমের নাম তদন্তে বাতিল হলেও পরে হঠাৎ করেই তাকে ডিলার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এতে অর্থ লেনদেনের বিষয় জড়িত রয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাঙরারহাট এলাকার আবেদনকারী আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ১০ জন আবেদনকারী ছিলেন, যার মধ্যে ছয়জন যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, তালিকায় থাকা না থাকা সত্ত্বেও এক নুর আলম নামে ব্যক্তি ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান। তার দাবি, এটি ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর ফল।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন আবদুল মোত্তালেব, ফখরুল ইসলাম, রোকেয়া বেগম, সেকেন্দার আলী লিমনসহ অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে স্বচ্ছ ও পুনরায় লটারি অনুষ্ঠানের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এবং তদন্ত কমিটির সদস্য এটিএম রিয়াসাদ বলেন, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কিছু ত্রুটি থাকলেও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কোনো স্বজনপ্রীতি বা লেনদেন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।