রাজীবপুরে ভিজিডি কার্ড বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলায় ভিজিডি (VGD) কার্ড বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে সদর ইউনিয়নের আলিম মাদ্রাসা মাঠে অসহায় ও দুঃস্থ কার্ডধারী মহিলারা এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৫-২৬ চক্রের জন্য বরাদ্দকৃত ভিডব্লিউবি (VWB) উপকারভোগী তালিকা থেকে ২৬২টি নাম বিনা তদন্তে কর্তন করা হয়েছে। কার্ড বাতিলের কারণ হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের দাবি, ইউএনও প্রতিটি কার্ডের জন্য ৮ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন, যা না দেওয়ায় এই নামগুলো কর্তন করা হয়েছে।

৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহিদা বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। বিনামূল্যে যারা কার্ড পাওয়ার যোগ্য, তাদের জন্য কার্ড বরাদ্দ করলেও ইউএনও সেসব বাতিল করেছেন।”

২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি ১০ বছর ইউপি সদস্য ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিজিডি কার্ড দিয়েছি। অথচ ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যান আমার দেয়া কার্ড বাতিল করেছেন। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও সাহেব নিজেই কিছু ইউনিয়নে ভিজিডির ২০% ভাগ দাবি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “কোদালকাটি ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নেও একই অনিয়ম হয়েছে। ইউএনও নিজে ভিজিডি সুবিধাভোগীদের তালিকায় ভাগ বসিয়েছেন—এটা এই প্রথম দেখলাম।”

অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আতাউর রহমান জানান, তিনি ইউপি সচিব ও বিএস (ব্লক সুপারভাইজার) এর সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে নাম কর্তন করেছেন। তবে ব্লক সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আমি কিছুই জানি না এ বিষয়ে।”
ইউপি সচিব নুরুন্নবীও বলেন, “আমাকে ইউএনও সাহেব বিনা তদন্তে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি স্বাক্ষর করিনি।”

মানববন্ধনে উপস্থিত নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কেউ আমাদের বাড়িতে তদন্তে আসেনি। আমাদের বক্তব্য না শুনেই নাম কাটা হয়েছে। আমরা সরকারের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি ও বাতিল হওয়া ২৬২টি ভিজিডি কার্ড পুনর্বহালের দাবি জানান।

Share With