কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার আড়ালে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন ও রিচার্জ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মো. আলাল হোসেন (পিতা: জহুর উদ্দিন)। তার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নে।
পুলিশ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধলডাঙ্গা বাজারে একটি ছোট মোবাইল ব্যাংকিং দোকানের আড়ালে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অর্থ রিচার্জ ও লেনদেনের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। শুধু ভূরুঙ্গামারী নয়, সীমান্তবর্তী ভারতের কোচবিহার এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও অনলাইন জুয়ার জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন নজরদারির পর অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়, যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল। এ সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত ৪টি স্মার্টফোন, বেশ কয়েকটি মোবাইল সিম কার্ড এবং অনলাইন জুয়ার রিচার্জ কার্যক্রমে ব্যবহৃত নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সদ্য প্রণীত ‘জুয়া আইন-২০২৬’-এর অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “দীর্ঘ ১৬৬ বছর পর ব্রিটিশ আমলের জুয়া আইন সংস্কার করে নতুন জুয়া আইন-২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সরকার অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলাকে মাদক, চোরাচালান ও অনলাইন জুয়ামুক্ত রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও গণআন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি।
এ প্রসঙ্গে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “জুয়া ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।