কুড়িগ্রামে বেড়েছে চুরির উপদ্রব, আতঙ্কে গ্রামবাসী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে চুরির উপদ্রব। গত কয়েক মাসে একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, গভীর রাতে বসতবাড়ি, ঘর কিংবা গোয়ালঘরে ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও গবাদিপশু চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এতে এলাকাবাসী দিনরাত ভয়ে সময় কাটাচ্ছেন—কখন যে নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ চুরি হয়ে যায়, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। মেছবাহুল আলম নামে এক ব্যক্তির গরু, সেচ পাম্প ও বাইসাইকেল চুরি হয়েছে। বাদশা মিয়ার বাড়ি ফাঁকা থাকায় রাইস কুকার ও ফ্যান চুরি যায়। মুক্তার আলীর একটি ছাগল এবং ছাত্তার আলীর পানির মোটর চুরির ঘটনাও ঘটে।

চুরি হওয়া একটি রাইস কুকার পরবর্তীতে একই এলাকার আবুবকর নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, রাইস কুকারটি আমিনুর রহমানের ছেলে সজিব মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের হেফাজতে চুরি হওয়া জিনিসপত্র রাখা হয়।

চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নাম প্রকাশ পেলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, একের পর এক চুরি ঘটলেও প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Share With