চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারের সুষ্ঠু বণ্টন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জেলার রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন সার গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি ডিলারদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারের কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রৌমারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুই উপজেলার সার ডিলারদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহাবুবুল হাসানের সঞ্চালনায় সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম এনডিসি, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জনাব অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সারের বরাদ্দ ও সার্বিক মজুদের চিত্র তুলে ধরে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাব অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “গত অর্থবছরে কুড়িগ্রাম জেলায় মোট সারের বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টায় সম্প্রতি জেলার জন্য আরও ৫০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।” ফলে জেলায় সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই উল্লেখ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা বা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণ হলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন তিনি।
কৃষকদের ভোগান্তি নিরসনে ডিলার ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম এনডিসি বলেন, “আমন মৌসুমে কৃষকেরা যেন সঠিক সময়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সারের সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে চরম আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
সভায় ডিলারদের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, প্রতিটি বিক্রয়ের স্বচ্ছ হিসাব ও রেজিস্টার গুদামে সংরক্ষণ করতে হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরি বা সার মজুত করে রাখার মতো অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারের বাজারে কালোবাজারি রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনাসহ মনিটরিং জোরদার করতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মতবিনিময়কালে ডিলাররা সার পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁদের নানা সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক রৌমারী ও চর রাজিবপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার গুদাম, ডিলারদের বিক্রয় কেন্দ্র ও সরবরাহ পয়েন্ট সরেজমিনে পরীক্ষা করে দেখেন।