শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে মর্নিং শিফট চালু এখন সময়ের দাবি:প্রফেসর মীর্জা মোঃ নাসির উদ্দিন

তীব্র ভ্যাপসা গরম ও ধারাবাহিক লোড শেডিংয়ের এই সংকটকালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রাইমারি ও হাই স্কুলগুলোতে ক্লাসের সময়সীমা পুননির্ধারণ করা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি বলে আমি মনে করি। কিছু দিনের জন্য ক্লাসের সংখ্যা কমিয়ে সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা  ১১:৩০ টা পর্যন্ত বিদ্যালয় পরিচালনার স্বপক্ষে প্রধান যুক্তিগুলো  তুলে ধরছি।

(১) স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস ও হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ:

দুপুর ১২:০০ টার পর থেকে বিকেল ৩:০০ টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ ও তাপদাহ চরম রূপ নেয় এবং এ সময় অনুভূত তাপমাত্রা বেশি থাকে।  শ্রেণিকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকলে কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে এই সময় শিশুদের হিট স্ট্রোক, তীব্র পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা এবং হিট এক্সহসশনের চরম ঝুঁকি থাকে। সকালে ক্লাস শেষ হলে তীব্র রোদের সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ে বাসায় থাকতে পারবে।

(২) মনোযোগ ও শিখন ক্ষমতা বৃদ্ধি:

 প্রচণ্ড গরমে এবং ফ্যান ছাড়া আবদ্ধ শ্রেণিকক্ষে ঘামে ভিজে শিক্ষার্থীদের পক্ষে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভোরের দিকে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় এবং পরিবেশ ঠাণ্ডা থাকায় শিক্ষার্থীরা দিনের প্রথমভাগে বেশি মনোযোগ দিয়ে শিখতে পারে।

(৩) লোডশেডিংয়ের প্রভাব কমানো:

 দিনের বেলা, বিশেষ করে দুপুরের দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ও লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। সকালে ক্লাস নিলে লোডশেডিংয়ের চরম দুর্ভোগের সময়টুকু এড়িয়ে তুলনামূলক কম কষ্টেই পাঠদান সম্পন্ন করা সম্ভব।

(৪) শিক্ষক ও কর্মচারীদের কর্মক্ষমতা বজায় রাখা: 

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এই অসহ্য গরমে দীর্ঘসময় একটানা ক্লাস নেওয়া শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে আসে। সকালের শিফটে তারা পূর্ণ উদ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

(৫) যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হওয়া: 

দুপুর ১২:০০ টা থেকে ২:০০ টা  পর্যন্ত পিচঢালা তপ্ত রাস্তায় হেঁটে বা গণপরিবহনে বাড়ি ফেরা শিশুদের জন্য মারাত্মক কষ্টদায়ক। সকাল ৮:০০ টায় আসার সময় তাপমাত্রা যেমন কম থাকে, তেমনি বেলা  ১১:৩০ টায় ছুটির সময়েও রোদ চরম সীমায় পৌঁছানোর আগেই তারা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারবে।

বিদ্যমান আবহাওয়া ও বাস্তবতায় শিক্ষাবর্ষের শিডিউল ঠিক রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছুদিনের জন্য  এই সাময়িক সময়সূচি পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

অতীতের নজির:

২০২৪ সালে দেশে রেকর্ড তাপদাহ চলাকালে যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়, তখন তীব্র গরম এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠদানের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকালে নিয়ে আসে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস দুপুর পর্যন্ত না রেখে সকাল ৮:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা বা ১২:০০ টা পর্যন্ত সীমিত রাখার সরকারি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

শ্রেণিকক্ষে গণ-অসুস্থতা: ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় (যেমন গাজীপুর, নোয়াখালী, শরীয়তপুর) বিদ্যুৎহীন বা ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ক্লাস চলাকালীন একটানা বহু শিশু শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে পড়া, বমি করা এবং হিট এক্সহসশনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছিল। সূত্র: দৈনিক শিক্ষা .কম।

লেখক: অধ্যক্ষ (পিআরএল), কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।

Share With